বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০১৪

সিমেন্ট গ্রাইন্ডিং মিল (Cement Grinding Mill)

গ্রাইন্ডিং মিল বা সিমেন্ট কল/মিল হল সেই যন্ত্র যা শক্ত ক্লিংকারকে সূক্ষ্ম ধূসর পাউডারে পরিণত করে এই সূক্ষ্ম ধূসর পাউডারকেই সিমেন্ট বলা হয়  বর্তমানে  সিমেন্ট তৈরিতে সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত হয় বল মিল (Ball mill) এছাড়াও এখন উল্লম্ব বেলন মিল (vertical roller mills) নামে নতুন এক প্রকার সিমেন্ট কল/মিল ব্যাবহারিত হচ্ছে  যা বল মিলের চেয়ে বেশি কার্যকর

ইতিহাস

যেমন জেমস পার্কার, জেমস ফ্রস্ট এবং জোসেফ Aspdin দের তৈরি সিমেন্ট অর্থাৎ প্রথম দিকের  জলবাহী সিমেন্ট ( hydraulic cements) অপেক্ষাকৃত নরম ছিল  যা আদিম প্রযুক্তিব্যবহার করে অর্থাৎ flatmillstones (শীল পাটা) দিয়ে সহজেই গুড়া কারা যেত  ১৮৪০  পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট এর উত্থানের পর বেশ কঠিন হয়ে পরে, কারন কিন মেশিনে উৎপাদিত ক্লিংকার millstone-এর মতই শক্ত হত তখন সিমেন্টে  ১০০ মাইক্রোমিটার ব্যাস কণা গড়ে ২০% বেড়ে যায় ,এর ফলে সিমেন্টের শক্তি সঞ্চয় ক্ষমতা কমে যায়   ফলে ক্লিংকার গুড়ো কারার জন্য নতুন পদ্যতি আবিস্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় ১৮৮৫ সাল থেকে, ইস্পাত শিল্পের উন্নয়ন শুরু হয় এবং বিভিন্ন ধরনের উন্নত  ইস্পাত আবিস্কার হয় এই সব উন্নত  ইস্পাত ব্যাবহার করে সিমেন্ট গুড়ো কারার নতুন নতুন সরঞ্জাম তৈরি হয় বল মিল হল সেই সরঞ্জাম গুলোর মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর মেশিন

যে সকল উপকরণ ভাঙ্গা হয় 

পোর্টল্যান্ড সিমেন্টের প্রধান উপাদান হল ক্লিংকার পোর্টল্যান্ড সিমেন্টে  একটু ক্যালসিয়াম সালফেটের (সাধারণত 3-10%) যোগ করা হয় tricalcium aluminate- এর শুকানোর সময়কে ধীরগতি করার জন্য ক্যালসিয়াম সালফেট প্রাকৃতিক ভাবে পাওয়া যায় জিপসামে সাধারণত সর্বোচ্চ % পর্যন্ত ব্যাবহার করা হয় মিশ্র সিমেন্টে  প্রাকৃতিক pozzolans, ছাই, চুনাপাথর, সিলিকা ইত্যাদি 40% পর্যন্ত সংযোজন করা যায়

তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ

গ্রাইন্ডিং মিল বা বলমিল যখন ঘুরে তখন মিলের ভিতরের বল গুলোর পারস্পরিক সংঘর্ষে মিলের ভিতরে তাপ উত্পন্ন হয় এই তাপের জিপসামের (CaSO4.2H2O)  পানি বের হয়ে বাসিনেট (bassanite) (CaSO4.0.2-0.7H2O) অথবা ওয়াই-অ্যানহাইড্রাইট (y-anhydrite) (CaSO4. ~ 0.05H2O) গঠন করে যদি উক্ত উপাদান গুলো বেশী পরিমানে গঠিত হয় তাহলে সিমেন্ট দ্রুত জামাট বাঁধবে এই দ্রুত জামাট বাঁধাকে "মিথ্যা সেট" ("false set") বলে, মিলের উচ্চ তাপমাত্রা এর কারণে এটি হয়ে থাকে মিলের আউট লেট ( যে দিক দিয়ে সিমেন্ট বের হয়)  তাপমাত্রা  কোন রকমেই ১১৫° সেঃ এর বেশী গ্রহণযোগ্য নয় অপরপক্ষে মিলের তাপমাত্রা যদি কম হয়, তাহলে  সিমেন্ট জমাট ধীরে বাঁধবে, জমাট বাধার সময় দানাদার হবে এবং শক্ত কম হবে

বল মিল

          
বল মিল হচ্ছে একটি অনুভূমিক সিলিন্ডার যা আংশিকভাবে বিভিন্ন আকারের ইস্পাত বল দিয়ে ভরা হয়, সিলিন্ডারটি যখন তার নিজস্ব অক্ষের উপর ঘুরে (rotates)  তখন সিলিন্ডারের ভিতরের বল গুলো গড়াগড়ি করে এবং পরস্পর পরস্পরকে জোরালো ভাবে আঘাত করে এই বল গুলকে গ্রাইন্ডিং মিডিয়া বলা হয় গ্রাইন্ডিং মিডিয়া সাধারণত উচ্চ ক্রোমিয়াম ইস্পাত দিয়ে তৈরি হয় বল মিল যখন ঘুরে তখন বলের মধ্যে এক প্রকার আবর্তনের গতি (critical speed) সৃষ্টি হয় এই গতির (centrifugal action) কারনে বল গুলো মিলের ভিতরের ছাদ পর্যন্ত উঠে নিচে পরে কাচামাল (ক্লিঙ্কার,জিপসাম) এই বলের আঘাতে সূক্ষ্ম কনায় পরিণত হয়, অর্থাৎ সিমেন্টে পরিণত হয় মিলের ঘূর্ণন গতি (rpm) নির্ধারণের সুত্র - NC = 42.29 / √d এখানে d তে মিলের অভ্যন্তরীণ ব্যাস বুঝায়, আর মাপের একক হল মিটার   মিলের ঘূর্ণন গতি (rpm) সাধারণত মিলের অভ্যন্তরীণ ব্যাসের ৭৫% নির্ধারণ করা হয় যেমন, মিলের অভ্যন্তরীণ ব্যাস যদি মিটার হয় তাহলে তার আরপিএম নির্ধারণ করতে হবে ১৪(rpm)
বল মিল  সাধারণত অন্তত দুটি চেম্বার বিভক্ত করা হয়, এতে বিভিন্ন আকারের মিডিয়া(বল) ব্যবহার, যা ফিড ইনপুট (ক্লিংকারের) আকারের উপর নির্ভর করে তবে বর্তমানে জনপ্রিয় রোলার মিলে সাধারণত একটি চেম্বারই   বড় বল গুলো সাধারনত ইনলেট চেম্বারে থাকে যাতে বড় ক্লিংকার গুলো (ব্যাস 25 মিমি উপর হতে পারে) ভাঙ্গতে পারে ইনলেট চেম্বারে বলের ব্যাস সাধারণত ৬০-১০০মিমি হয় দ্বিতীয় চেম্বারের বলের ব্যাস সাধারণত ১০-৮০মিমি হয় বড় মিডিয়া সিমেন্টে প্রয়োজনীয় অতি সূক্ষ্ম কণা সৃষ্টি করতে পারে না, কিন্তু ছোট মিডিয়া তা পারে সাধারন নিয়ম অনুযায়ী মিডিয়ার  আকার নির্ভর করে কোন চেম্বারে কোন আকারের ক্লিংকার কনা গুড়ো করতে হয় তার উপর   ক্লিংকারের আকারের উপর ভিত্তি করে বা চেম্বারের মিলও তৈরি হয়েছে মিলের ভেতরে কৃত্তিম বায়ু প্রবাহ তৈরি করা হয় যাতে মিল ঠাণ্ডা থাকে কাচা মাল থেকে নির্গত গাঢ় আর্দ্রতা বের হ্যে যায় প্রবাহিত বায়ুর সাথে সূক্ষ্ম কণার সিমেন্ট বের হয়ে যায় যা আটকানর  জন্যে এক ধরনের কাপড়েরের ব্যাগ ব্যাবহার করা হয় যা ব্যাগ ফিল্টার (Bag filters) নামে পরিচিত

ক্লোজ সারকিট মিল (Closed-circuit System)

বল মিলের দক্ষতা বা কার্যক্ষমতা (efficiency) উন্নত তখনই বলা যায় যখন মিল যত বেশী অতি সূক্ষ্ম কণা তৈরী করতে পারবে তাই বল মিলের থেকে যে সিমেন্ট বের হয় তার থেকে মোটা কনা গুলো আলাদা করে সেগুলিকে আবার মিলে ফেরত পাঠাতে হয় আরও গুড়ো হওয়ার জন্য সাধারণত মিল থেকে যে সিমেন্ট বের হয় তার ১০-৩০% পৃথক হয়ে আবার মিলে ফেরত আসে   সাধারণত মিল থেকে যে সিমেন্ট বের হয় তার ৮৫-৯৫% সিমেন্ট সাইলোতে চলে যায় যেই মিল থেকে সর্বনিম্ন পরিমাণ মোটা কণা বের হয় সেই মিলের কার্যক্ষমতা (efficiency)ততবেশী সিমেন্ট নির্মাণের এটি হচ্ছে মূল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সিমেন্ট থেকে মোটা কণা সূক্ষ্ম কণা আলাদা বা বিভক্ত করার যন্ত্রকে বিভাজক বা Separator বলে আধুনিক বিভাজক বা Separator গুলো আরও নিখুত ভাবে সূক্ষ্ম কণা আলাদা করতে পারে এগুলো অনেক কম শক্তি (power) খরচ করা ছারাও সিমেন্ট মিলের ভিতরের উতপ্ত কমিয়ে রাখতে সাহায্য করে


রোলার (বেলন) মিল   


রোলার মিল অনেক আগে থেকেই অন্যান কারখানায় বিশেষ করে যে সকল করখানার নরম কাঁচামাল গুড়ো করা হয় সেসকল কারখানায় ব্যাবহার হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি রোলার মিল ও উচ্চ দক্ষতা সম্পন্য বিভাজক (High-efficiency separators) মিলিত ভাবে সিমেন্ট কারখানায় কাঁচামাল গুড়ো  জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। দেখা গেছে কাঁচামাল গুড়ো সময় বলমিলের বল কাচা মালের উপর যে চাপে আঘাত করে রোলার মিল তার  তুলনায় অনেক বেশী চাপ প্রদান করে ফলে কাঁচামাল বেশী গুড়ো হয়, এক কথায় রোলার মিল, বলমিলের তুলনায় আরো দক্ষ (efficient) । এবং জ্বালানি খরচ সাধারণত বল মিলের প্রায় অর্ধেক ।

উচ্চ চাপ রোলার (বেলন) মিল   


এটি একজোড়া রোলার দিয়ে গঠিত, এদের পরস্পেরের মধ্যে ৮-৩০ মিমি ব্যাবধান থাকে, যা আবর্তিত হয় ০৯-১.৮  MS গতিতে । রোলের গুলো এমন ভাবে নকশা করা হয় যাতে ঘুরার সময় এত ৫০ এমপিএ বা আরো বেশী চাপ প্রদান করতে পারে। ক্লিংকার এই দুই রোলারের মধ্যে দিয়ে নিচে পরে ও ফাইন সিমেন্টে পরিণত হয়। তারপরও এতে কিছু সমস্যা আছে। বর্তমানে এই মিলটি "প্রাক মাড়াই/চূর্ণ কারক" হিসাবে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে।  এই প্রক্রিয়ায় সিমেন্ট রোলের থেকে বের হয়ে একটি এক চেম্বারের বল মিলে প্রবেশ করে এই মিল থেকে  খুব ভাল ও ফাইন সিমেন্ট বের হয়। একটি সাধারন বল মিল সিস্টেমের সাথে তুলনায় ২০-৪০% দ শক্তি খরচ কম করে।




বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই, ২০১৪

বাংলাদেশের সিমেন্ট কারখানার তালিকা


সিমেন্ট তৈরিতে কয়েকটি ধাপ পেরোতে হয়। প্রথম ধাপে কাচামাল আহরণ অর্থাৎ মুলত কাদা ও চূনাপাথর আহরণ, দ্বিতীয়ত কাচামাল গুলোকে পানি দিয়ে দ্রবন তৈরি করে রোটারি কিলন মেশিনে পুড়িয়ে ক্লিঙ্কার তৈরি করা তৃতীয় পর্যায়ে গ্রাইন্ডিং মিলে গুড়ো করে সিমেন্ট তৈরি কারে সাইলোতে জমা করা এবং সব শেষে বস্তজাত করে বাজরে অর্থাৎ ভোক্তাদের কাছে পৌছে দেয়া ।
 বাংলাদেশের সিমেন্ট কারখানার তালিকা করলে সেটা অনেক দীর্ঘ হবে। কিন্তু বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ সিমেন্ট কারখানা অর্থাৎ উপরের সব গুলো ধাপ পুরন  করে এই রকম সিমেন্ট কারখানা আছে মাত্র দুটি। ১) ছাতক সিমেন্ট ও ২) লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট। অন্যান্য সিমেন্ট কারখানা গুলো বিদেশ থেকে ক্লিঙ্কার গ্রাইন্ডিং মিলে গুড়ো করে সিমেন্ট তৈরি কারে সাইলোতে জমা করা এবং সব শেষে বস্তজাত করে




আরামিট গ্রুপ বাংলাদেশের অত্যান্ত পুরাতন একটি প্রতষ্ঠান, যার একটি পণ্য হল এসবেস্টর সীট। এই সীট বানানোর জন্যে মান সম্মত সিমেন্টের প্রয়োজন থেকে ১৯৯৯ সালে আরমিট সিমেন্ট লিঃ  যাত্র শুরু করে, যার দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ৭০০ মেঃ টন । সম্প্রতি আরমিট সিমেন্ট লিঃ তাদের দ্বিতীয় কারখানা চালু করেছে যার দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ১০০০ মেঃ টন । নিজেদের প্রয়োজনেই আরমিট সিমেন্ট লিঃকে আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন সিমেন্ট তৈরি করতে হয়। বর্তমানে আরমিট সিমেন্ট লিঃ ভারত ও মিয়ানমারে সুনামের সাথে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সিমেন্ট রপ্তানি করছে।
 
বসুন্ধরা সিমেন্ট হল বাংলাদেশের একটি অন্যতম শিল্প সংস্থা বসুন্ধরা গ্রুপের (Bashundhara Industrial Complex Ltd (BICL)) একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ।এই প্রতিষ্ঠানের দুটি সিমেন্ট কারখানা আছে ।
একটি হচ্ছে খুলনার মংলায়। এই কারখানার সিমেন্টের মার্কা  “King Brand Cement। এটি প্রথম উৎপাদন শুরু করে ২০১২ সালে, যার উৎপাদন ক্ষমতা প্রতি বছর ১.৬২ লক্ষ্য মেট্রিক টন ।
অপর কারখানাটি হচ্ছে  নারায়নগঞ্জের মাদানগঞ্জে, যা অল্প কিছুদিনের মধ্যে উৎপাদন শুরু করবে।  যার উৎপাদন ক্ষমতা প্রতি বছর ২.১০ লক্ষ্য মেট্রিক টন।  অথাৎ বর্তমানে বসুন্ধরা গ্রুপের উৎপাদন ক্ষমতা প্রতি বছর ৩.৭২ লক্ষ্য মেট্রিক টন। এই গ্রুপ তদের পরবর্তী  উৎপাদন  লক্ষমত্রা নির্ধারণ করেছে ৪.৫ লক্ষ্য মেট্রিক টন ।

আকিজ গ্রুপ বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরানো শিল্প সংস্থা গুলোর মধ্যে অন্যতম যার প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৫৩ সাল। নারায়ণগঞ্জের শীতালক্ষা নদীর তীরে অবস্থিত  আকিজ সিমেন্ট কারখানা প্রথম ২০০২ সালের ৩রা নভেম্বারে উৎপাদন শুরু করে । বর্তমানে এর উৎপাদন ক্ষমতা --- লক্ষ্য মেট্রিক টন। আকিজ সিমেন্ট বাংলাদেশে প্রথম “Vertical Roller Mill (VRM) ব্যাবহার করে সিমেন্ট উৎপাদন করে।

মংলা সিমেন্ট,  বাংলাদেশ সেনা কল্যাণ সংস্থার একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান । এটি খুলনার মংলা বন্দরের কাছে পশুর নদীর তীর  অবস্থিত। এই কারখানা উৎপাদন শুরু করে ১৯৯৪ সালে, যার উৎপাদন ক্ষমতা প্রতি ঘণ্টায় ১০০মেট্রিক টন ।এই কারখানার দুটি মিল আছে। একটির উৎপাদন ক্ষমতা প্রতি বছর ৩.৯ লক্ষ্য মেট্রিক টন ।আর অপরটির উৎপাদন ক্ষমতা প্রতি বছর ২.১ লক্ষ্য মেট্রিক টন । অর্থাৎ মংলা সিমেন্টের মোট উৎপাদন ক্ষমতা প্রতি বছর ৬.০ লক্ষ্য মেট্রিক টন ।
মংলা সিমেন্ট কারখানায় দুই ধরনের সিমেন্ট তৈরী হয়,
1.      Portland Cement (CEM I /42.5N, CEM I /52.5N).
2.       Portland Composite Cement (CEM II/B-M(SVL) 42.5 N).

ডায়মন্ড সিমেন্ট লিঃ,  হাবিব গ্রুপ বাংলাদেশ এর একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান । এটি চট্টগ্রাম বন্দরের বিপরীতে কর্ণফুলী  নদীর তীরে  অবস্থিত। এই কারখানা বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে ১৯৯৮ সালে, যার উৎপাদন ক্ষমতা প্রতি ঘণ্টায় ৪০০০মেট্রিক টন । অর্থাৎ ডায়মন্ড সিমেন্টের মোট উৎপাদন ক্ষমতা প্রতি বছর -- লক্ষ্য মেট্রিক টন । কর্ণফুলী নদীর পারে নিজস্ব জেটি থাকায় কাচামাল পরিবহন ও উৎপাদিত সিমেন্ট বিক্রির ক্ষেত্রে ডায়মন্ড সিমেন্ট একটি বারতি সুবিধা ভোগ করে।

ইস্টার্ন সিমেন্ট লিঃ
ইস্টার্ন সিমেন্ট লিঃ,  ডোরেন (DOREEN)  গ্রুপ বাংলাদেশ ( পূর্বে এর নাম ছিল সিদ্দিক গ্রুপ)  এর একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান । এটি মেঘনা  নদীর তীরে  অবস্থিত। এই কারখানা বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে ১৯৯৯ সালে, যার উৎপাদন ক্ষমতা প্রতি বছর -- লক্ষ্য মেট্রিক টন । এই সিমেন্ট দেশে সাত ঘোড়া সিমেন্ট নামে পরিচিত কারন এর মার্কা হচ্ছে “Seven hores” বা সাত ঘোড়া

আলহাজ্ব মোস্তফা হাকিম সিমেন্ট ইন্ড্রাস্ট্রি লিঃ,  তাহের গ্রুপ বাংলাদেশ এর একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান । এটি চট্টগ্রামের অদূরে সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরাতে  অবস্থিত। এই কারখানা বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে ১৯৯৯ সালে, যার উৎপাদন ক্ষমতা প্রতি বছর ১৭০০০ মেট্রিক টন ।

এই কারখানা বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে ২১এপ্রিল ২০০১সালে, যার উৎপাদন ক্ষমতা প্রতি বছর ১৭০০০ মেট্রিক টন । সিমেক্স সিমেন্ট লিঃ,  সিমেক্স ইন্টারন্যাশনাল এর একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান । এটি একটি আন্তর্জাতিক নির্মাণ সামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, বিশ্বের ৫০টির মত দেশে  তাদের প্রতিষ্ঠান আছে। বাংলাদেশে  মাহমুদ নগর,বন্দর,নারায়ণগঞ্জের শীতালক্ষা নদীর তীরে সিমেক্স সিমেন্ট লিঃ অবস্থিত। এই কারখানা বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে ২১এপ্রিল ২০০১সালে, যার উৎপাদন ক্ষমতা প্রতি বছর ৫৫০০০০ মেট্রিক টনএই সিমেন্টের মার্কা CEMEX

নিটল সিমেন্ট লিঃ বাংলাদেশের পুরানো সিমেন্ট কারখানা গুলোর একটি। এই প্রতিষ্ঠানের কারখানা উত্তরবঙ্গে এবং বিক্রির মূল বাজারও উত্তরবঙ্গই । নিটল সিমেন্ট লিঃ দূই ধরনের সিমেন্ট বানয় ১) ছাই বর্ণের সিমেন্ট(Grey Cement) ২) সাদা সিমেন্ট(White Cement )। ছাই বর্ণের সিমেন্টের উৎপাদন ক্ষমতা প্রতি বছর ১৩০০০০ মেট্রিক টন সাদা সিমেন্টের মার্কা হল বিড়লা (Birla)। মূলত  ইন্ডিয়ার সাথে যৌথ উদ্যোগে সাদা সিমেন্ট তৈরি হয়। যার উৎপাদন ক্ষমতা প্রতি বছর ২০০০০ মেট্রিক টন

এস,আলম  সিমেন্ট লিঃ,  এস,আলম  সিমেন্ট গ্রুপ বাংলাদেশ এর একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান । এটি চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত। এই কারখানা বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে -- সালে, যার উৎপাদন ক্ষমতা প্রতি দিন ১২০০ মেট্রিক টন । এই সিমেন্টের  মার্কা হচ্ছে মিনার

হোন্দাই সিমেন্ট বাংলাদেশ ক্রয়ের মাধ্যমে  হোলসিম বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করে ২০০০সালে। পরবর্তিতে তারা আরও দুটি  সিমেন্ট কারখানা ১) ইউনাইটেড সিমেন্ট, মেঘনা ঘাট ২) সাইহাম সিমেন্ট, মংলা  ক্রয় করে এবং বাজার বিস্তার করে।
.


এম,টি,সি সিমেন্টের প্রচলিত নাম হচ্ছে বাঘ মার্কা সিমেন্ট। চীনা  কম্পানি CITIC engineeringএর কারিগরি সহায়তায় ১৯৯৮ সালে এই  প্রতিষ্ঠান যাত্রা শুরু করে। দূটি কারখানায় তারা  সিমেন্ট উৎপাদন করে । দূটির মধ্য একটি মেঘনা ঘাট, নারায়ণগঞ্জ ও অপরটি পাগলা , নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত



হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশ লিঃ আন্তরজাতিক সিমেন্ট কোম্পানি হাইডেলবার্গ সিমেন্ট গ্রুপের একটি অঙ্গ  প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের সিমেন্টের মোট চাহিদার ১৩%  হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশ লিঃ তার দুটি কারখানা দিয়ে পুরন করে। কারখানা দুটি হচ্ছে
১) চট্রগ্রাম সিমেন্ট ক্লিঙ্কার গ্রাইনডিং  কম্পানি লিঃ। যার মার্কা  হচ্ছে রুবি ।
২) স্ক্যান সিমেন্ট লিঃ, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা
এই দুটি কারখানার  মোট উৎপাদন ক্ষমতা বছরে ১.৫ লক্ষ মেট্রিক টন ।