বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৪

স্ট্যাটিক বা কঙ্কর (Static or grit) বিভাজক




ভূমিকা:

আমরা আগেই আলচনা করেছি সেপারটর/বিভাজক প্রধানত দুই ধরনের ১) স্ট্যাটিক বিভাজক এবং ২)গতিশীল বিভাজক। স্ট্যাটিক বিভাজকে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়:

- সাইক্লোন (Cyclones)
- স্ট্যাটিক বা কঙ্কর (Static or grit) বিভাজক
- ভী (V) বিভাজক

এখানে আমরা বা কঙ্কর (Static or grit) বিভাজক নিয়ে আলোচনা করব।

স্ট্যাটিক বিভাজক/সেপারেটর অনেকটা সাক্লোন সেপারেটরের  মতএকটি সহজ যান্ত্রিক ডিভাইস  যা সাধারণত গ্রাইন্ডিং মিলে ব্যবহার হয় 

বায়ু প্রবাহ থেকে অপেক্ষাকৃত বড় কণা সংগ্রহ -

তারা আছে এবং তারা কাজ, যেহেতু স্ট্যাটিক বিভাজকে কোন চলন্ত অংশ নেই তাই এটি চালানো অপেক্ষাকৃত সহজ, এবং তুলনা মূলক দামে সস্তা
স্ট্যাটিক বিভাজক (অথবা গ্রিট বিভাজক), বিশেষ সাধারণত ক্লিংকার মিলে ব্যবহার করা হয়
স্ট্যাটিক বিভাজক উপকারিতা


  • কম মূলধন  
  • উচ্চ তাপমাত্রা চাপ কাজ করার ক্ষমতা
  •  যেহেতু কোন চলন্ত অংশ নেই সেহেতু খুব কম রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় 

অপারেশন মুলনীতি:

  • উপাদান গুলো বিভাজক নীচ দিয়ে  বায়ু প্রবাহের সঙ্গে প্রবেশ করে 
  • বিভাজকের উপরের দিকে যে ব্লেড থাকে তার কারনে বিভাজকের উপরের অংশে একটি ঘূর্ণি তৈরি হয় *কেন্দ্রাতিগ বলের (centrifugal force) করনে, মোটা উপাদান দেয়ালের দিকে যায়, এবং দেয়ালে গড়িয়ে একটি পাইপের/নলের মাধ্যমে নীচে নামে এবং বিভাজকের বাইরে যায় সূক্ষ্ম উপাদান গুলো উপরের বহিঃগমন নলের  মাধ্যমে বাইরে যায়  ব্লেডের অবস্থান পরিবর্তন করে পণ্যের ফাইন্যেস নিয়ন্ত্রন করা হয় যখন ব্লেড সর্বোচ্চ খোলা ৯০° ( radial position) থাকে তখন বহিঃগমন নলে যে মাল বের হবে তাতে মোটা দানার পরিমাণ বেড়ে যাবে ব্লেড যত বন্ধ হবে (tangential position) সূক্ষ্ম উপাদান বেড়ে  যাবে, কারন ব্লেড যত বন্ধ হবে বিভাজকের উপরের অংশে বায়ু প্রবাহ বেড়ে ঘূর্ণির গতিকে বাড়িয়ে দেবে
  • ব্লেডযদি৬০-৭০° - বেশী খোলা হয়, তখন ব্লেডের সাথে ঘর্ষণের ফলে কণাগুলোর বেগ কমে যায়, ফলে মোটা দানা আবার বেড়ে যাবে এবং সূক্ষ্মকণা আবার কমে যাবে। 

অপারেটিং বৈশিষ্ট্য:

  • প্রথম স্তর থেকে বাতাস যখন দ্বিতীয় স্তরে প্রবেশ করে তখন বায়ুর চাপের পতন ঘটে এই পতনের পরিমাণ ব্লেডের খোলা বন্ধের পরিমানের উপর নির্ভর করে সাধারণত এখানে বায়ুর চাপ ১৫০মিঃমিঃ থাকলে একটি ভাল ফল পাওয়া যায় 
  •  বহিঃগমন নল যদি ছোট হয় তাহলে মোটা দানার( Coarser) পরিমাণ বেড়ে যাবে  
  • বহিঃগমন নল যদি বড় হয় তাহলে সূক্ষ্ম দানার (Fine) পরিমাণ বেড়ে যাবে 
  • যে কারনে বহিঃগমন নলের দৈর্ঘ সঠিক ভাবে নিরুপন সমন্বয় করতে হয়   
  • ব্লেড যত কম খোলা থাকবে বায়ুর চাপের পতনের পরিমাণ ততই বেড়ে যাবে বায়ুর চাপের পতনের পরিমাণ যত বাড়বে বহিঃগমন নল দিয়ে ততই সূক্ষ্ম দানা বের হয়ে আসবে

ব্যাস গণনা:

বিভাজক ব্যাস নিম্নলিখিত সূত্র দিয়ে নির্ধারিত করা যায়:

 


মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৪

কংক্রিট (Concrete)

 

কংক্রিট কি ? (What is concrete)


কংক্রিট একটি স্থিতিস্থাপক/আঠালো(Paste) যৌগিক উপাদান যা প্রধানত পানি, সিমেন্ট এবং পাথর সমষ্টি (aggregate বলতে বালি, নুড়ি, বা গুঁড়ো পাথর ইত্যাদি বুঝায়) দিয়ে গঠিত হয়। সিমেন্ট ও পানির কারনে একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে ফলে পেস্টটি শুকাতে শুরু করে বা বলা যায় পানিশূন্য(hydration) হতে শুরু করে এবং পেস্টটি ধীরে ধীরে পাথরের মত শক্ত হয় যা কংক্রিট হিসাবে পরিচিত।

এর একটি অসাধারণ বৈশিষ্ট্য আছে যা সবচেয়ে বেশী গুরত্বপূর্ণ: যখন মিশ্রনটি তৈরি করা হয় তখন এটি আঠালো, স্থিতিস্থাপক এবং নমনীয় থাকে তখন এটি সহজেই বিভিন্ন আকৃতির ছাচের মধ্যে ঢেলে বিভিন্ন আকৃতির অবকাঠামো তৈরি  করা যায় কিন্তু কংক্রিট যখন কঠিনীভূ/শক্ত হয় তখন এটি হয় শক্তিশালী এবং টেকসই। এই গুণের কারনেই, উঁচু তলার বাড়ি, সেতু, ফুটপাত এবং রাজপথ, ঘর এবং বাঁধ ইত্যাদি নির্মাণে  কংক্রিট সবচেয়ে গুরুত্তপূর্ণ একটি উপাদানে পরিণত হয়েছে।

অনুপাত (Proportioning)


একটি শক্তিশালী, টেকসই কংক্রিট তৈরির জন্যে সংশ্লিষ্ট উপাদানের অনূপাত নিয়মানুযায়ী মেশাতে হবে। মিশ্রণটি যদি যথেষ্ট নরম না হয় তাহলে ছাচে ঢালার পর  উপাদান গুলোর মধ্যকার শূন্যস্থান থেকে যাবে এবং এর পৃষ্ঠতল হবে রুক্ষ, এর ফলে কংক্রিটটি দুর্বল হবে ও  সহজে ফেটে যেতে পারে। অপরপক্ষে মিশ্রণটি যদি নিয়মানুযায়ী তৈরি হয় তাহলে উপাদান গুলোর মধ্যে কোন শূন্যস্থান থাকবেনা ফলে অবকাঠামোটি হবে শক্ত ও পৃষ্ঠতল হবে মসৃণ ।

পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট পানির সংস্পর্শে আসামাত্রই এর রসায়নিক বিক্রিয়া শুরু হয় এবং প্রকার পেস্ট গঠন করে । এই পেস্ট পাথর এবং বালির সাথে মিশে এক প্রাকার স্থিতিস্থাপক মণ্ড তৈরি করে একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটার ফলে পানিশূন্য হয়ে শক্ত হয় ও শক্তি সঞ্চয় করে।

পেস্ট মানের উপর কংক্রিটের এর চরিত্র নির্ভর করে। এই পেস্টের শক্ত পুরোপুরি  নির্ভর করে সিমেন্ট ও জলের অনুপাত উপর। উচ্চ মানের কংক্রিট তৈরি করতে হলে যথাসম্ভব কম পানি মেশাতে হবে কিন্তু লক্ষ রাখতে হবে যাতে কাজের জন্যে নির্ধারিত নিয়ে ব্যবহার করা পর্যন্ত যাতে তাজা কংক্রিটের প্রয়োজনীয় স্থায়িত্ব ও কার্যোপযোগিতায় কোন রকম প্রভাব না পরে। সাধারণত, একটি মিশ্রণে প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ সিমেন্ট, ৬০ থেকে ৭৫ শতাংশ পাথর নুড়িরি,৫ থেকে ২০শতাংশ জল ও থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত বায়ু থাকে। 

অন্যান্য উপকরণ (Other Ingredients)


প্রাকৃতিক পানযোগ্য যেকোন প্রকার পানি যাতে কোন উটকো স্বাদ বা গন্ধ নেই তাই কংক্রিটে মেশানোর পানি হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। অতিরিক্ত পানি মেশালে শুধু সেটিং সময় দীর্ঘ হয় তা না বরং তা ভলিউমে অস্থায়িত্ব, স্থায়িত্ব হ্রাস, কংক্রিটের ভেতরে শূন্যস্থান, জমাট বাধার পর শক্তি সঞ্চয়ে বাধার সৃষ্টি করতে পারে।

প্রায় সবরকম পানীয় জল কংক্রিট মেশানোর জন্য উপযুক্ত হয়ে থাকে কিন্তু বালি, নুড়ি, বা গুঁড়ো পাথর ইত্যাদি যত্নসহকারে নির্বাচিত করতে হয়। এগুলো সাধারণত মোট কংক্রিট এর ৬০ থেকে ৭৫ শতাংশ দখল  করে। কংক্রিট পণ্যের পুরুত্ব এবং উদ্দেশ্যে উপর নির্ভর করে বালি, নুড়ি, বা গুঁড়ো পাথর ইত্যাদির ধরন ও আকার নির্বাচন করা হয়। যেমন তুলনামূলকভাবে পাতলা বিল্ডিং ছোট দানা আর  বড় বাঁধ নির্মাণে ছয় ইঞ্চি ব্যাস পর্যন্ত দানা ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অকাঠামোর ব্যাবহার ও ধরণের উপর নির্ভর করে দানার মাপ নির্ধারণ করা বাঞ্ছনীয়। কংক্রিট এর মান ঠিক রাখার জন্যে অবশ্যই দানা গুলো ব্যবহারের আগে পরিষ্কার করে নিতে হবে ।

জলয়োজন  (Hydration)


পাথর সমষ্টি, জল, এবং সিমেন্ট মিলিত হওয়ার পরপরই, মিশ্রণ শক্ত হওয়া আরম্ভ করে। সমস্ত পোর্টল্যান্ড সিমেন্টই হাইড্রলিক সিমেন্ট যার ধর্মই হচ্ছে পানির সাথে মিশ্রিত হওয়ার সাথে সাথে একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া মাধ্যমে পানিশূন্য হয়ে সেট হয় এবং শুকিয়ে শক্ত হয়, এই প্রক্রিয়কে জলয়োজন,পানিশূন্যতা বা হাইড্রেসন (hydration) বলে। এই বিক্রিয়ার সময়  প্রতিটি সিমেন্ট কণা পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে বন্ধনির মত তৈরি করে ও যুক্ত হয়। এবং যেহেতু  পাথর সমষ্টির গায়ে সিমেন্ট সেটে থাকে সেহেতু এই বন্ধন তৈরির সময় পাথর সমষ্টিও এই বন্ধনির সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়।

কংক্রিট পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মিশ্র এবং কার্যকর হলে মিশ্রণ খুব শক্ত হয়ে যায় তাই  এটি শক্ত হওয়ার আগেই একে কাঙ্ক্ষিত ছাচে স্থাপন কতে হয়।কংক্রিট ছাচের মধ্যে বসানো সময় লক্ষ্য রাখতে হবে কংক্রিট যাতে ছাচে ঠেসে বসে, এর ভিতরে যাতে কোন ফাক না থাকে (যেমন বুদবুদ বা বায়ু পকেট) প্রয়োজনে কম্পন যন্ত্রদিয়ে এগুলি সংকুচিত করতে হবে।

অত্যন্ত ঠান্ডা বা গরম আবহাওয়া কংক্রিট শক্ত জন্য কিছু বিশেষ কৌশল ব্যবহার করা হয়। কংক্রিট শক্ত হওয়ার হার নির্ভর করে সিমেন্ট কতটা মিহি(fineness) , মিশ্রণ অনুপাত, আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার অবস্থা ইত্যাদির উপর। কংক্রিট যতই দিন যায় ততই শক্তি অর্জন করে । সাধারণত কংক্রিট অধিকাংশ শক্তি লাভ করে তৈরির প্রথম মাসের মধ্যে  কিন্তু অনেক বছর জন্য একটি ধীর হারে চলতে থাকে ।